অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক আরোপে প্রভাব পড়বে না সোডার দামে

অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় সোডার দাম বাড়তে পারে বলে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা।

অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় সোডার দাম বাড়তে পারে বলে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা। শুল্ক আরোপের অর্থ হলো আমদানিকারকদের এ অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশ থেকে আনা অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের দাম বাড়বে। তবে বিষয়টি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় পানীয় কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই। তারা বলছে, শুল্কের কারণে খরচ বাড়লেও এটি শিল্পের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কোকা-কোলার সিইও জেমস কুইন্সি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে কোম্পানিটি অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার কমিয়ে অন্য ধরনের প্যাকেজিং উপকরণের উৎপাদন বাড়াতে পারে। যাতে দাম সহনীয় থাকে এবং ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করা যায়।

অর্থনৈতিক নীতি সংস্থার সিনিয়র অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম এস হার্শের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভের পরিমাণ এতটাই বেশি যে উৎপাদনের একটি ছোট উপাদানের সামান্য মূল্যবৃদ্ধি সহজেই তারা সামলাতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘মূলত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে একটি সোডার ক্যানের উৎপাদন খরচ ৪ সেন্ট থেকে ৫ সেন্টে উন্নীত হবে। অর্থাৎ ছয়টি ক্যানের একটি প্যাক তৈরির খরচ মাত্র ৬ সেন্ট বাড়বে। পানীয় কোম্পানিগুলোর মুনাফার মার্জিন যথেষ্ট থাকায় তারা সহজেই এই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে পারবে।’

বেশির ভাগ পানীয় কোম্পানি তাদের প্যাকেজিংয়ের কাজ আউটসোর্স করে। বোতল প্রস্তুতকারীরা কাঁচামাল কেনে এবং দাম নির্ধারণ ও কৌশল ঠিক করে বলে জানান সিটি ব্যাংকের পানীয় বিশ্লেষক ফিলিপো ফালর্নি।

বৃহৎ পানীয় কোম্পানিগুলো এ পরিস্থিতিতে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। তবে যেসব ছোট কোম্পানি নিজেরাই প্যাকেজিং করে তাদের জন্য ক্যান থেকে প্লাস্টিক বোতলে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে। তাই এ শুল্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো অনিশ্চিত।

কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক এবং লেভার ফুডস, সিগ্রাম ইউএসএ ও ট্রপিকানার প্রাক্তন সিইও উইলিয়াম পিটারসেন বলেন, ‘ক্যান থেকে অন্য ধরনের প্যাকেজিংয়ে পরিবর্তন করা একটি বিশাল সিদ্ধান্ত। কারণ এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে।’

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশীয় উৎপাদকরা।

আমেরিকান মেটাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইউজার্স কোয়ালিশন (সিএএমএমইউ) সতর্ক করেছে যে এ শুল্ক মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ক্রেতাদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত মোট অ্যালুমিনিয়ামের প্রায় ৪৭ শতাংশই ছিল আমদানীকৃত।

যদিও প্লাস্টিক বোতলে স্থানান্তর কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ কমাতে পারে, পরিবেশবাদীরা এর নেতিবাচক দিক নিয়ে সতর্ক করেছেন।

বিয়ন্ড প্লাস্টিকসের সভাপতি জুডিথ এনক সতর্ক করেছেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

উল্লেখ্য, কোকা-কোলা বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের শীর্ষ উৎস। ডিসেম্বরে কোম্পানিটি তাদের প্যাকেজিং সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বৃহৎ পানীয় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো আত্মবিশ্বাসী যে তারা শুল্কজনিত চ্যালেঞ্জ সামলে নিতে পারবে। ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত খরচ চাপানোর প্রয়োজন হবে না। তাদের প্রত্যাশা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে পানীয় কোম্পানিগুলোর ওপর তেমন কোনো চাপ পড়বে না। সিএনএন

আরও